অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন
পুলিশের গাড়ি এসে থামল রিয়ার কলেজের মেইন গেটের সামনে। ইনস্পেক্টর ফাহিম নিজের টিম নিয়ে সোজা প্রিন্সিপালের রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। 🔴 রিয়ার ক্লাসমেট সাবিনা ভয়ে কিছুটা জড়সড় হয়ে আছে। ফাহিম তাকে আশ্বস্ত করে জিজ্ঞেস করলেন, — "রিয়ার কি কারও সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল?" 🔴
সাবিনা জানালো, সজল নামের এক ছেলের সাথে রিয়ার সম্পর্ক ছিল। ফাহিম নোটপ্যাডে সজলের কলেজের নাম লিখে নিলেন। 🔴 আইটি সেল থেকে রিয়ার ফোনের লাস্ট লোকেশন পাওয়া গেল কলেজের আশেপাশেই। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সজল গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ! 🔴
ফাহিমের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। সজল নিখোঁজ হয়েছে পাঁচ দিন আগে, আর রিয়া দুই দিন আগে। 🔴 ঠিক সেই সময়ে ফাহিমের ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে খবর এল নদীর ধারে একটা বস্তাবন্দি লা*শ পাওয়া গেছে। 🔴
পনেরো মিনিটের মধ্যে পুলিশ সেই নির্জন জায়গায় পৌঁছে গেল। বাতাসে এক ধরনের উৎকট গন্ধ ভাসছে। 🔴 কনস্টেবলরা বস্তার মুখ খুলতেই ভেতরের বীভৎস দৃশ্য দেখে সবাই আঁতকে উঠল। বস্তার ভেতরে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ পিস পিস করে কা*টা! 🔴
মাংসের টুকরোগুলোর মাঝে আস্ত থাকা মাথাটি দেখে ফাহিম চিনতে পারলেন—এটি নিখোঁজ সজলের মাথা! 🔴 এক টোকাই ছেলে বস্তাটি প্রথম দেখেছিল। ফাহিম লক্ষ্য করলেন, লাশের শরীরে এক ফোঁটাও র*ক্ত নেই, যেন খু*নি খুব সাবধানে মাংসগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করেছে। 🔴
ফাহিম বুঝতে পারলেন, খু*নি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার এবং একজন প্রফেশনাল সাইকোপ্যাথ। 🔴 লা*শ মর্গে পাঠিয়ে দিয়ে ফাহিম আশেপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। খু*নি কোনো চিহ্নই পেছনে ফেলে যায়নি। 🔴
এদিকে শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে আরিশ বসে আছে অত্যন্ত পরিপাটি হয়ে। 🔴 চশমা চোখে তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই সে কী ভয়ংকর অপরাধী। তার নজর পড়ল সামনে বসা এক বিষণ্ণ মেয়ের ওপর। 🔴 মেয়েটির চোখের নিচে কালি, তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছে। 🔴
আরিশ বইয়ের আড়াল থেকে মেয়েটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। 🔴 তার ঠোঁটের কোণে অত্যন্ত ধীরে একটা শয়তানি হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটির অসহায়ত্ব আরিশের ভেতরের পশুকে আবার জাগিয়ে তুলছে। 🔴
সে মনে মনে বলল, —"আবার একটা শিকার পেয়েছি। গেট রেডি সুইটহার্ট, তোমার এই দুঃখ আমি খুব তাড়াতাড়ি দূর করে দেব।" 🔴 লাইব্রেরির শান্ত পরিবেশের আড়ালে বসে আরিশ তার নতুন মরণফাঁদ বুনতে শুরু করল। 🔴
তার চোখের সেই পৈশাচিক দৃষ্টি যেন শান্ত একটা ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে। 🔴 ফাহিম কি পারবে এই নতুন শিকারকে বাঁচাতে, নাকি আরিশের নারকীয় উল্লাস চলতেই থাকবে? 🔴 রহস্য যেন প্রতি মুহূর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে। 🔴
0 Comments