অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন
"নিজের প্রেমিকের শরীরের রান্না করা মাংস খেতে কেমন লাগল রিয়া?" 🔴 কথাটা শোনামাত্র রিয়ার হাত থেকে খাওয়ার চামচটা ঝনঝন শব্দে প্লেটের ওপর খসে পড়ল। গলার কাছে দলা পাকিয়ে উঠল মাত্রই পরম তৃপ্তিতে খাওয়া মাংসের টুকরোগুলো। 🔴
রিয়া চমকে উঠে আরিশের দিকে তাকালো। ডাইনিং টেবিলের মৃদু আলোয় আরিশের মুখে ফুটে উঠেছে এক অদ্ভুত, ক্রুর হাসি। 🔴 সে কাঁপা কাঁপা গলায় কোনোমতে বলল, — "এসবের মানে কী আরিশ? কী আজে*বাজে বকছ তুমি?"
আরিশ টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে ফিসফিস করে বলল, — "তোমার বয়ফ্রেন্ড সজল... গত দুই দিন যাবৎ নিখোঁজ, তাই না রিয়া?" 🔴 রিয়ার চোখের মণি ভয়ে বড় বড় হয়ে গেল। আরিশ খপ করে তার বাঁ হাতটা চেপে ধরল এবং হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলল করিডোর ধরে। 🔴
করিডোরের শেষে একটা গোপন কক্ষে তারা প্রবেশ করল। ঘরের মাঝখানে একটা লোহার খাট আর কোণে রাখা এক বিশাল ডিপ ফ্রিজ। 🔴 আরিশ রিয়ার চিবুক ধরে বলল, — "তোমার ভালোবাসার মানুষটার সাথে দেখা করবে না?"
আরিশ এক ঝটকায় ডিপ ফ্রিজের ঢাকনাটা খুলে ফেলল। 🔴 ধোঁয়া সরতেই রিয়া এক গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠল। ফ্রিজের ভেতরে বরফের মাঝে রাখা আছে সজলের কা*টা মাথা! 🔴 রিয়া নিজের চুল খামচে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, — "তুমি একটা খুনি! তোমাকে আমি পুলিশে দেব!"
আরিশ হো হো করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। 🔴 রিয়া জানপ্রাণ দিয়ে দৌড়ে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু দরজা বাইরে থেকে লক করা। আরিশ ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে এসে রিয়ার চুল মুঠি করে ধরল। 🔴 রিয়াকে শূন্যে তুলে আছড়ে ফেলল লোহার বিছানায় এবং মোটা লোহার শিকল দিয়ে তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলল। 🔴
এরপর আরিশ এক ভয়ানক উন্মাদনায় রিয়ার সমস্ত পোশাক ছিঁড়ে ফেলল। 🔴 সারারাত ধরে চলল আরিশের নারকীয় তাণ্ডব। রিয়ার আর্তনাদ সাউন্ডপ্রুফ চার দেয়ালের বাইরে এক ইঞ্চিও গেল না। 🔴
ভোরের আলো যখন ফুটতে শুরু করেছে, আরিশ এক বীভৎস ঠান্ডা মাথায় একটা ভারী বালিশ তুলে নিল। 🔴 কোনো কিছু বোঝার আগেই সে বালিশটা রিয়ার মুখের ওপর চেপে ধরল। কিছুক্ষণ ছটফট করার পর রিয়ার শরীরটা একদম নিস্তেজ হয়ে এল। 🔴
আরিশ রিয়ার নিথর দেহটা কাঁধে তুলে পেছনের আরেকটা অন্ধকার রুমে নিয়ে গেল। 🔴 সেখানে একটা প্লাস্টিক বিছানো টেবিলের ওপর সে শরীরটাকে পিস পিস করে কাটতে শুরু করল। 🔴 র*ক্তে ভেসে গেল মেঝের অনেকটা অংশ। এরপর সে নিজেকে আয়নায় দেখে পারফিউম মেখে এমনভাবে সাজল, যেন সে সমাজের খুব ভদ্র একজন মানুষ। 🔴
এদিকে শহরের ব্যস্ততম থানায় ইনস্পেক্টর ফাহিমের কাছে রিয়ার বাবা হন্তদন্ত হয়ে এলেন। 🔴 তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, — "স্যার, আমার মেয়ে গত দুই দিন যাবৎ নিখোঁজ! প্লিজ ওকে বাঁচান!" 🔴
ফাহিম রিয়ার ছবিটা হাতে নিলেন। ছবিতে হাসিমুখের মিষ্টি একটা মেয়ে। 🔴 তিনি আইটি সেলকে ফোন ট্র্যাকিংয়ের নির্দেশ দিলেন। ফাহিম নিজের রিভলবারটা পকেটে পুরে নিয়ে রিয়ার কলেজের দিকে রওনা হলেন। 🔴 অপরাধী যতই চালাক হোক, কোথাও না কোথাও সূত্র ঠিকই ফেলে যায়। ফাহিম কি পারবেন সেই পশুর মুখোশ খুলে দিতে? 🔴
অন্ধকারের গহ্বরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। 🔴
0 Comments