অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন
ঘরের ভেতরের দুজন মানুষের মনের অবস্থা একেবারে বিধ্বস্ত। 🔴 ইমরান আজ সকাল থেকে লজ্জায় সুবর্ণার দিকে একবারও চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। নিজের এই অকল্পনীয় অক্ষমতার কথা ভেবে তার মাথা নিচু হয়ে আসছে। 🔴
অন্যদিকে সুবর্ণার অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। সারারাত এক অদম্য, অতৃপ্ত কামনার আগুনে সে দাউদাউ করে পুড়েছে। 🔴 রাতজাগা আর শারীরিক যন্ত্রণায় তার চোখ দুটো জবা ফুলের মতো টকটকে লাল হয়ে আছে। সে ভোরের আলো ফুটিয়েছে বালিশ খামচে ধরে। 🔴
ইমরান বাথরুম থেকে বের হয়ে অপরাধী গলায় বলল, — "গত রাতের ব্যাপারটার জন্য... আই অ্যাম রিয়েলি সরি।" 🔴 সুবর্ণা কথা না বাড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার ভেতরে রাগ করার মতো বিন্দুমাত্র শক্তি অবশিষ্ট নেই। 🔴
সুবর্ণা কোনোমতে নিজেকে টেনে তুলে ডাইনিংয়ে গিয়ে এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেল। শরীরটা আজ তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। 🔴 বুকভরা ক্লান্তি নিয়ে সে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল। কিন্তু এই ঘুম যে তাকে প্রশান্তি দেবে না, তা সে বুঝতে পারেনি। 🔴
হঠাৎ সুবর্ণা অনুভব করল, বরফের মতো হিমশীতল একটা হাত তার ডান পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে আছে। 🔴 সেই হিমশীতল হাতটা এবার ধীরে ধীরে সুবর্ণার পা ছুঁয়ে ক্রমশ ওপরের দিকে উঠতে লাগল। সুবর্ণার শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে আসতে শুরু করল। 🔴
হাতটি সোজা তার উরুর ওপর এসে থামল। তারপর খুব ধীর, কিন্তু পৈশাচিক অধিকারবোধে ম্যাসেজ করতে শুরু করল। 🔴 সুবর্ণা সমস্ত শক্তি একত্রিত করে একটা ঝটকা দিয়ে লাফিয়ে বিছানায় উঠে বসল। 🔴
চোখ খুলতেই দেখল ঘর একদম ফাঁকা। ঠিক এমন সময় তার চোখ গেল দেয়ালটার দিকে। 🔴 দিনের এই উজ্জ্বল আলোতেও সেখানে সেই স্পষ্ট, কুচকুচে কালো অবয়বটা দাঁড়িয়ে আছে! সুবর্ণা এবার পরিষ্কার বুঝতে পারল, এই অশরীরীটাই তাকে স্পর্শ করেছে! 🔴
ভয় আর শরীরের ভেতরে জ্বলতে থাকা উত্তেজনার আগুনে সুবর্ণা ছটফট করতে লাগল। সে পা*গলের মতো বাথরুমে ঢুকে কনকনে ঠান্ডা পানিতে শরীরটা ডুবিয়ে দিল। 🔴 পানির শীতলতা তার মস্তিষ্ককে কিছুটা শান্ত করল। কিন্তু বের হয়ে আসতেই সেই অভিশপ্ত উত্তেজনা আবার দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে এলো! 🔴
ঠিক এমন সময় শাশুড়িমা দরজায় টোকা দিলেন। তিনি জানালেন আজ দুপুরে সুবর্ণার রান্নার পালা। 🔴 সুবর্ণা ভাবল, ভারী কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে হয়তো এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচা যাবে। সে দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেল। 🔴
রান্নাঘরে ঢুকেই সে নিজেকে পুরোপুরি রান্নার কাজে সঁপে দিল। পোলাও, রোস্ট, চিংড়ির মালাইকারি—সব দামি পদ সে রাঁধতে শুরু করল। 🔴 সুবর্ণার রান্নার সুবাসে পুরো বাড়ি ম-ম করতে লাগল। সে খুব যত্ন নিয়ে ডাইনিং টেবিল সাজাল। 🔴
সবাই খাবার টেবিলে বসল। সুবর্ণা নিজ হাতে সবার প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে শুরু করল। 🔴 কিন্তু খাবারটা মুখের ভেতর যেতেই ঘটে গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য! সবাই গলার কাছে হাত দিয়ে কাশতে শুরু করল। 🔴
ইমরানের ফুফু আর শাশুড়িমা আর্তনাদ করে উঠলেন। শাশুড়িমা চেঁচিয়ে বললেন, —"মনে হচ্ছে যেন কেউ খাবারের সাথে গলগল করে এসিড মিশিয়ে দিয়েছে!" 🔴
"এসিড!" শব্দটা শোনামাত্র সুবর্ণার কানের কাছে যেন একটা বোমা ফাটল। 🔴 তার মানে কি তার শরীরের সেই অভিশপ্ত যন্ত্রণা এখন খাবারের মাধ্যমে অন্যদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে? 🔴 সুবর্ণা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রাজনের মায়ের অভিশাপ ধীরে ধীরে তার পুরো পরিবারকে গ্রাস করতে আসছে। 🔴
0 Comments