Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

part -1

অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন - পূর্ণাঙ্গ পর্ব

অভিশপ্ত কামনার ভ্রুন

লেখা:- সিহাব হোসেন

হিমশীতল হয়ে আসা ঘরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। 🔴 বিছানার ঠিক সামনের দেয়ালে ফুটে ওঠা সেই অবয়বহীন, কুচকুচে কালো ছায়াটা যেন অন্ধকারের মাঝেই আবার কোথায় মিলিয়ে গেল। সুবর্ণার বুকের ধুকপুকানি তখনো থামেনি। 🔴 সারা শরীর ঘামে জবজবে। কাঁপা কাঁপা হাতে সে এসি’র রিমোটটা নিয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিল, কিন্তু ভেতরের কাঁপুনিটা কিছুতেই কমছিল না।

সে আর চোখ বন্ধ করার সাহস পেল না। হাঁটু মুড়ে বিছানার এক কোণে বসে রইল। চারপাশের নিস্তব্ধতা যেন তাকে চেপে ধরছে। 🔴 এই নীরবতার মাঝেই হঠাৎ রাজনের মুখটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। ছেলেটার সেই নিষ্পাপ হাসি, পকেটে জমানো সামান্য কিছু টাকা দিয়ে সুবর্ণার জন্য কিনে আনা সস্তা চুড়ি, আর তার চোখে থাকা এক আকাশ ভালোবাসা। 🔴 সুবর্ণার মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা, যেদিন সে নির্মমভাবে রাজনকে অপমান করেছিল। ছেলেটা তার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল, বলেছিল— "আমাকে ছেড়ে যেও না সুবর্ণা, আমি ম*রে যাব।"

সত্যিই তো, ছেলেটা ম*রেই গেল। সুবর্ণা নিজের অজান্তেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কি ভীষণ কষ্টই না সে দিয়েছে মানুষটাকে! 🔴 স্বার্থপরের মতো কেবল টাকার মোহে অন্ধ হয়ে পাঁচ বছরের একটা নিখাদ ভালোবাসাকে সে নিজের হাতে গলা টিপে হ*ত্যা করেছে। অনুশোচনার এক তীব্র দহন সুবর্ণার বুকের ভেতরটা পুড়িয়ে দিতে লাগল। 🔴 টুপ করে এক ফোঁটা নোনা জল গাল বেয়ে পড়ল তার। সারা রাত এই অপরাধবোধ আর ভয়ংকর স্বপ্নের ঘোরে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেই কেটে গেল।

সকালে যখন ঘুম ভাঙল, তখন সূর্য অনেকটা ওপরে উঠে গেছে। জানালার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে সোজা সুবর্ণার মুখে পড়ছে। 🔴 চোখ কচলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল বেলা ১১টা বাজে। গত রাতের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আর অনুশোচনার রেশ এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। সে বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। 🔴 আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

তার আর ইমরানের বিয়ের খুব বেশি দিন বাকি নেই। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক। কেনাকাটা, পার্লার, আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত, সব মিলিয়ে এক এলাহি ব্যাপার। 🔴 এসব ভাবতে ভাবতেই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে রুহির নাম। ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রুহি একপ্রকার কেঁদে উঠল, 🔴
— "সুবর্ণা... রাজনের মা... রাজনের মা আর নেই রে! কাল রাতে উনি মা*রা গেছেন!"

কথাটা শোনার পর সুবর্ণার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। সে যেন পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল। 🔴 চোখের সামনে পৃথিবীটা যেন বনবন করে ঘুরছে। এক লহমায় তার মনে হলো, এই দুটো মৃ*ত্যুর জন্যই তো সে একা দায়ী। তার একটা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একটা সাজানো সংসার চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেল। 🔴 কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে সে দ্রুত একটা সুতির সালোয়ার-কামিজ পরে রাজনের বাড়ির দিকে ছুটল।

রাজনের বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই সুবর্ণার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। এই তো কয়েকদিন আগেই রাজনের লাশ এখানে রাখা ছিল, আজ সেখানে তার মায়ের নিথর দেহ। 🔴 চারদিকে এক গুমোট, দমবন্ধ করা পরিবেশ। মানুষের ফিসফিসানি আর আগরবাতির কড়া গন্ধে বাতাস যেন ভারী হয়ে আছে।

সুবর্ণা ধীর পায়ে লাশের দিকে এগিয়ে গেল। সাদা কাপড়ে মোড়ানো রাজনের মায়ের মুখটা দেখামাত্রই সুবর্ণা চমকে এক পা পিছিয়ে এলো। 🔴 সত্যিই তো! মহিলার মুখ থেকে শুরু করে হাত, পা পুরো শরীর কালচে নীল হয়ে আছে। চোখের মণি দুটো যেন ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মুখের মাংসপেশিগুলো এমনভাবে কুঁচকে আছে যেন মৃ*ত্যুর আগে তিনি ভয়ংকর কোনো যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। 🔴

দিন গড়িয়ে গেল। আজ সুবর্ণা আর ইমরানের বিয়ে। শহরের সবচেয়ে দামি আর অভিজাত কনভেনশন হলে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। 🔴 সানাইয়ের সুর আর দামি পারফিউমের গন্ধে চারপাশ ম-ম করছে। সুবর্ণা বসে আছে স্টেজের ঠিক মাঝখানে। তার পরনে মেরুন রঙের ডিজাইনার লেহেঙ্গা, সারা গা ভারী সোনার গয়নায় মোড়ানো। 🔴

কিন্তু হঠাৎ করেই স্টেজের এক কোণে চোখ পড়তেই সুবর্ণার হাসিটা মিলিয়ে গেল। অতিথিদের ভিড়ের একটু পেছনে, অন্ধকারের একটা কোণ ঘেঁষে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। 🔴 কুচকুচে কালো একটা অবয়ব। তার কোনো মুখ নেই, হাত-পা স্পষ্ট নয়, শুধু একটা দীর্ঘ মানবাকৃতির ছায়া। সুবর্ণার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। এই ছায়াটা সে আগে দেখেছে! 🔴

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত তখন অনেক গভীর। সুবর্ণা এখন বাসর ঘরে বসে আছে। পুরো ঘরটা রজনীগন্ধা আর লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। 🔴 ইমরান এসে সুবর্ণার পাশে বসল। আলতো হাতে সুবর্ণার মাথার ভারী ঘোমটাটা সরিয়ে দিল। মুগ্ধ চোখে সুবর্ণার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, — "উফ! তোমাকে যা লাগছে না সুবর্ণা..."

ইমরান সুবর্ণার ঠোঁট দুটি নিজের ঠোঁটের মাঝে বন্দি করে নিল। এক গভীর, উষ্ণ আর উন্মাদনায় ভরপুর চুম্বনে মেতে উঠল তারা। 🔴 কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। সুবর্ণার হঠাৎ মনে হলো, ইমরানের ঠোঁট থেকে কোনো লালা নয়, বরং ফুটন্ত গরম এসিড গলগল করে তার মুখের ভেতর প্রবেশ করছে! 🔴 সেই তরলটা তার জিহ্বা, গলা আর অন্ননালীকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। সুবর্ণার দুই উরুতে শুরু হলো এক বীভৎস যন্ত্রণা। মনে হতে লাগল, কেউ হাজার হাজার জং ধরা, মোটা সুচ একসাথে তার দুই উরুর মাংসের ভেতর নির্দয়ভাবে গেঁথে দিচ্ছে! 🔴

"আআআহহহহহহহহহ!" ভয়ংকর যন্ত্রণায় সুবর্ণার গলা চিরে এক পৈশাচিক চিৎকার বেরিয়ে এলো। 🔴 সে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে এক ধাক্কায় ইমরানকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিল। অভিশপ্ত কামনার যে বীজ সুবর্ণা নিজের হাতে বপন করেছিল, আজ তার শেকড় গজাতে শুরু করেছে। 🔴

Mailsuite Email tracked with Mailsuite · Opt out 04/26/26, 07:51:08 PM

Post a Comment

0 Comments