"শারীরিক সম্পর্কে এক মিনিটও টিকতে পারো নাই! তোমার মতো একটা অক্ষম ছেলের সাথে সংসার করা মানে নিজের জীবনটাকে নিজের হাতে শেষ করে দেওয়া। আমি পারবো না এই মিথ্যার সংসার করতে!" 🔴
কথাগুলো তীরের মতো ছুটে এসে বিঁধলো অভ্রর বুকে। ড্রয়িংরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিথি কথাগুলো এমন উচ্চস্বরে বলল যে, মুহূর্তের জন্য পুরো বাড়ির পরিবেশ যেন বরফের মতো জমে গেল। 🔴 বিয়ের মাত্র দু'দিন পেরিয়েছে। এখনো বাড়ির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে গাঁদা আর রজনীগন্ধার শুকিয়ে যাওয়া পাপড়ি। 🔴 উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এমন এক চরম অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা এই বাড়ির কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি।
অভ্র সোফার এক কোণায় মাথা নিচু করে বসে আছে। তার ইচ্ছে করছে মাটিটা যদি এই মুহূর্তে দু'ভাগ হয়ে যেত, তবে সে সানন্দে সেই ফাটলের ভেতর ঢুকে যেত। 🔴 এতটা অপমান, এতটা লজ্জা সে জীবনেও পায়নি। ড্রয়িংরুমের উপস্থিত আছে অভ্রর বাবা নাছির সাহেব, মা ছেলিনা বেগম এবং বড় বোনের স্বামী সৌরভ। 🔴 অন্যদিকে সোফায় শক্ত মুখে বসে আছেন তিথির বাবা-মা। তাদের ডেকে আনা হয়েছে। সবার সামনে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের এমন অপমানজনক উপস্থাপন অভ্রকে যেন জীবন্মৃত করে তুলেছে। 🔴 লজ্জায় সে তার মা-বাবা বা দুলাভাই কারো দিকেই চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তার। 🔴
তিথি তখনও থামেনি। তার চোখেমুখে চরম বিরক্তি আর তাচ্ছিল্য। সে তার শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলল,
— "আপনারা জেনেশুনে এমন একটা ছেলের ঘাড়ে আমাকে গছিয়ে দিলেন? এই ছেলে জীবনেও আমাকে মা হওয়ার সুখ দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। 🔴 একটা অক্ষম পুরুষের সাথে আমি কোনোভাবেই থাকবো না।"
কথাগুলো আর সহ্য করতে পারলেন না সৌরভ। তিনি সাধারণত শান্ত প্রকৃতির মানুষ, কিন্তু বাড়ির বউয়ের মুখে এমন লাগামহীন কথা শুনে তিনি নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। 🔴 কিছুটা রাগী তবে সংযত গলায় বললেন, — "তিথি, তুমি এসব কী আজেবাজে কথা বলছো? তুমি কি বুঝতে পারছো তুমি কাদের সামনে দাঁড়িয়ে কী ভাষায় কথা বলছো? 🔴 মানুষকে সম্মান কীভাবে দিতে হয়, পারিবারিক শিষ্টাচার কাকে বলে, তা কি তুমি জানো না? যেকোনো সমস্যা ঘরের ভেতরে সমাধান করা যায়, এভাবে ড্রয়িংরুমের হাট বসিয়ে নয়।" 🔴
তিথি এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। সৌরভের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল,
— "আপনি চুপ করুন তো! মিথ্যা বলে, ছলচাতুরি করে এমন একটা অক্ষম ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিয়েছেন, এখন আবার বড় বড় কথা বলতে আপনাদের একটুও লজ্জা করছে না? 🔴 কিসের সম্মান দেব আমি? যে পুরুষ নিজের বউকে বিছানায় তৃপ্তি দিতে পারে না, তার আবার কিসের সম্মান!" 🔴
এই চরম অপমানজনক কথা শোনার পর অভ্রর আর এক মুহূর্তও সেখানে বসে থাকার মতো শক্তি রইল না। তার বুকটা ফেটে কান্না আসছিল। সে আর কোনো কথা না বলে, কারো দিকে না তাকিয়ে ধীর পায়ে উঠে নিজের ঘরের দিকে না গিয়ে সোজা ছাদের সিঁড়ির দিকে চলে গেল। 🔴
পেছন থেকে তিথির গলা শোনা গেল,
— "যে চলে যাচ্ছে যাক, আমি আর ওর সাথে কোনো সংসার করবো না। আমার ডিসিশন ফাইনাল।" 🔴
অভ্রর বাবা নাছির সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি মাথা নিচু করে সোফায় বসে আছেন, তার মুখে কোনো কথা নেই। ছেলের এই অপমানে তিনি যেন মুহূর্তেই কয়েক বছর বুড়িয়ে গেছেন। 🔴 অভ্রর মা ছেলিনা বেগম আঁচলে মুখ চেপে নীরবে ডুকরে কাঁদছেন। নিজের ছেলের এমন অপমান কোনো মায়ের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। 🔴
পরিবেশটা যখন থমথমে, তখন তিথির বাবা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলেন,
— "দেখুন বেয়াই সাহেব, আমার মেয়ের বয়স এখনো অনেক কম। তাছাড়া ওর পুরো জীবনটা সামনে পড়ে আছে। আবেগ দিয়ে তো আর জীবন চলে না। আপনাদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো রাগ বা শত্রুতা নেই। 🔴 কিন্তু আমার মেয়ে যখন এই সংসার করবেই না বলছে, তখন আমরা জোর করতে পারি না। আমরা আজই আমার মেয়েকে আমাদের সাথে নিয়ে যেতে চাই।"
পুরো ড্রয়িংরুমে পিনপতন নীরবতা। কারো মুখে কোনো কথা নেই। 🔴 বিয়ের দুই দিন না যেতেই একটা সাজানো সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে বাড়ির ছাদে অন্ধকার একটা কোণায় ছাদের রেলিং ঘেঁষে বসে আছে অভ্র। শীতের হিমেল হাওয়া তার গায়ে লাগছে, কিন্তু বুকের ভেতরের আগুনটা তাতে নিভছে না। 🔴 চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ছে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নগুলো এভাবে দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা সে ভাবেনি। 🔴
হঠাৎ ছাদে কারো পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। সৌরভ এসে অভ্রর পাশে বসলো। অন্ধকারে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর সৌরভ তার হাতটা অভ্রর কাঁধে রাখলো। খুব মোলায়েম স্বরে বলল,
— "চল আমার সাথে। রেডি হয়ে নে, আমরা এখনই একজন ভালো ডাক্তারের কাছে যাবো।" 🔴
অভ্র শূন্য দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে থেকে হতাশ গলায় বলল,
— "আর ডাক্তার দেখিয়ে কী হবে দুলাভাই? আমার আর কোনো ইচ্ছা নেই। যা হওয়ার তো হয়েই গেছে। 🔴 সম্মান যা যাওয়ার তা তো সবার সামনেই গেল। এখন আর এসব করে কোনো লাভ নেই।"
সৌরভ এবার একটু শক্ত গলায় বলল,
— "আমার কথা শোন অভ্র। তুই এখন যা বলবি, তা আমি শুনবো না। আমি যা বলছি তোকে তাই করতে হবে। কারণ এটা শুধু তোর একার নয়, এটা তোর পুরুষত্বের, তোর সম্মানের প্রশ্ন। 🔴 তোর বাবা-মা নিচে মাথা নিচু করে বসে আছে। তুই যদি সত্যিই কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকিস, তার চিকিৎসা আছে। আর যদি না থাকে, তবে এই অপবাদের জবাব তোকে দিতে হবে। তুই এখনই উঠবি।" 🔴
দুলাভাইয়ের কথার ওপর আর কোনো কথা বলতে পারলো না অভ্র। সে নীরবে উঠে দাঁড়ালো। 🔴
আধঘণ্টা পর সৌরভ আর অভ্র শহরের একজন নামকরা চেম্বারে বসে আছে। ডাক্তার খুব যত্ন নিয়ে অভ্রর কথাগুলো শুনলেন। কিছু প্রাথমিক ফিজিক্যাল চেকআপ করলেন।
পরেরদিন সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ডাক্তার হাসিমুখে সৌরভের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— "ভয়ের কোনো কারণ নেই। ওর শারীরিক কোনো অক্ষমতা নেই, সব রিপোর্ট এবং কন্ডিশন একদম নরমাল। ওর আসলে কোনো রোগই হয়নি।" 🔴
অভ্র অবাক হয়ে বলল,
— "তাহলে আমার ওরকম কেন হলো? আমি তো এক মিনিটও...।" লজ্জায় অভ্রর কথা আটকে গেল।
ডাক্তার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অভ্রকে বুঝিয়ে বলতে শুরু করলেন,
— "দেখো অভ্র, তোমার যে সমস্যাটা হয়েছে, এটা মূলত অতিরিক্ত মাস্টারিবেশনের কারণে। আমাদের দেশের অনেক তরুণই সঠিক যৌন শিক্ষার অভাবে এই অভ্যাসে চরমভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। 🔴 যখন কেউ দীর্ঘদিন ধরে পর্নোগ্রাফি দেখে দ্রুত মাস্টারবেট করে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার ব্রেন ওই দ্রুত স্খলন বা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার সময়টাকে মাথার মধ্যে সেভ করে নেয়। ব্রেন মনে করে, দ্রুত কাজ শেষ করাই হলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।"
ডাক্তার একটু থেমে আবার বললেন,
— "ফলে বিয়ের পর যখন তুমি প্রথমবার তোমার স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্কে গেলে, তখন তোমার ভেতরে একধরনের নার্ভাসনেস বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি কাজ করছিল। 🔴 তার ওপর তোমার ব্রেনের ওই পুরনো অভ্যাসের সিগন্যাল, সব মিলিয়ে প্রথমবার বা প্রথম কয়েকবার এমনটা হতে পারে। এটা কমবেশি অনেক ছেলের ক্ষেত্রেই ঘটে। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী অক্ষমতা নয়। সময়ের সাথে, নিয়মিত স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এটা পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো সঙ্গিনীর সাপোর্ট।" 🔴
সৌরভ মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনে বলল,
— "তাহলে এখন ওর কী করা উচিত ডাক্তার সাহেব?"
— "এখন অভ্রর স্ত্রীর উচিত তাকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়া।"
ডাক্তার বললেন।
— "তাকে বুঝতে হবে যে এটা কোনো রোগ নয়। স্ত্রী যদি এই সময়ে স্বামীকে তাচ্ছিল্য করে, তবে স্বামীর কনফিডেন্স আরও ভেঙে যায় এবং সমস্যাটা মানসিক রূপ নেয়। 🔴 পারস্পরিক বোঝাপড়া, ভালোবাসা আর একটু সময়, এটাই এই সমস্যার একমাত্র ওষুধ।" 🔴
ডাক্তারের কথাগুলো শুনে অভ্রর মনে হলো তার বুকের ওপর থেকে বিশাল একটা পাথর নেমে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই একরাশ অনুশোচনা তাকে গ্রাস করলো। সে বুঝতে পারলো, কৈশোর আর যৌবনের না-বোঝা বয়সে সাময়িক উত্তেজনার বশে সে যে ভুলগুলো করেছে, আজ তারই চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে তাকে। 🔴 মাস্টারবেশনের মতো একটা ক্ষতিকর আসক্তি আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় দিনটাকে নরকে পরিণত করেছে।
ডাক্তারের চেম্বার থেকে রিপোর্টগুলো নিয়ে সৌরভ আর অভ্র বাইরে বেরিয়ে এলো। রাতের শহরের নিয়ন আলোগুলো জ্বলছে। সৌরভ অভ্রর পিঠে হাত চাপড়ে বলল,
— "দেখলি তো? আমি বলছিলাম না তোর কোনো সমস্যা নেই! তুই খামোখাই ভয় পাচ্ছিলি।"
অভ্র ম্লান হেসে বলল,
— "সেটা তো ডাক্তার বুঝলো, আমি বুঝলাম, আর আপনি বুঝলেন। কিন্তু এই কথা তো তিথি মানতে চাইবে না। সে তো আমাকে কোনো সুযোগই দিতে রাজি না।" 🔴
সৌরভ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— "এটাই তো সবচেয়ে বড় সমস্যা রে ভাই। মেয়েটা যথেষ্ট শিক্ষিত, ওর তো অন্তত এটা বোঝা উচিত ছিল। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মানেই তো একজন আরেকজনের দুর্বলতায় পাশে দাঁড়ানো। 🔴 সামান্য একটা সমস্যা নিয়ে এভাবে পুরো পরিবারকে অপমান করা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।" 🔴
অভ্র চুপ করে রইল। তার ভেতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করছে।
সৌরভ নিজের মনেই বলতে লাগলো, "আমরা ছেলেরা যৌবনের উন্মাদনায় বেশির ভাগ সময়ই না বুঝে এই ধরনের বাজে অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ি। একবারও ভাবি না যে ভবিষ্যতে এর ফল কী হতে পারে। 🔴 যদিও ডাক্তার বলল এটা সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে, এটা কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু তিথি আর ওর পরিবারকে এই কথা বোঝানো এখন অনেক কঠিন।"
তবুও একটা শেষ চেষ্টা করার জন্য তারা তিথির বাসায় ফিরে এলো। সৌরভ সোজা গিয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্টগুলো তিথির বাবার সামনের টেবিলে রাখলো। 🔴
সৌরভ শান্ত গলায় বলল,
— "আমরা এইমাত্র একজন স্পেশালিস্ট দেখিয়ে আসলাম। ডাক্তার সব পরীক্ষা করে বলেছেন অভ্রর শারীরিক কোনো অক্ষমতা নেই। ও সম্পূর্ণ সুস্থ। 🔴 প্রথমবার নার্ভাসনেসের কারণে এমনটা হয়েছে, যা কিছুদিন সময় দিলে ঠিক হয়ে যাবে। ডাক্তার এটাও বলেছেন যে এই সময়ে স্ত্রীর সাপোর্ট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।"
তিথি রিপোর্টগুলোর দিকে এক নজর তাকিয়েই তাচ্ছিল্যের সাথে সেগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দিল। ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— "এসব ভুয়া আর মিথ্যা রিপোর্ট আমি বিশ্বাস করি না। টাকা দিলে আজকাল এমন হাজারটা রিপোর্ট বানানো যায়। আপনারা সবাই মিলে মিথ্যা কথা বলে আমার জীবনটা নষ্ট করতে চাইছেন। আমি এমন একটা কাপুরুষ আর অক্ষম ছেলের কাছে কখনো ফিরে যাবো না।"
এই কথা শোনার পর সৌরভের মাথার তার যেন ছিঁড়ে গেল। নিজের শ্যালককে কাপুরুষ আর অক্ষম বলায় সে আর নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। দাঁতে দাঁত চেপে, "তোর এত বড় সাহস!" বলে সে তিথিকে মারার জন্য হাত তুললো। 🔴
ঠিক সেই মুহূর্তে অভ্র এসে সৌরভের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো।
সবাই অবাক হয়ে অভ্রর দিকে তাকালো। অভ্রর চোখে মুখে এখন আর কোনো লজ্জা বা ভয় নেই। সেখানে অদ্ভুত এক স্থিরতা বিরাজ করছে। সে সৌরভের হাতটা নামিয়ে দিয়ে খুব শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল,
— "বাদ দাও ভাইয়া। সে যদি চলে যেতে চায়, তাকে সম্মানের সাথে চলে যেতে দাও।"
অভ্র এবার ঘুরে তিথির চোখের দিকে সরাসরি তাকালো। তারপর বলল,
—"ও ঠিকই তো বলছে ভাইয়া। ওর জীবনের অনেক দাম আছে। কেন সে আমার মতো একজনের সাথে নিজের জীবন নষ্ট করবে? যে মেয়ে বিয়ের দু'দিনের মাথায় স্বামীর একটা সাময়িক দুর্বলতা নিয়ে তাকে সবার সামনে অপমান করতে পারে, তাকে বিন্দুমাত্র বোঝার চেষ্টা না করে তার পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, তার সাথে আর যাই হোক, একটা সুস্থ সংসার করা যায় না।"
তিথি কিছুটা অবাক হয়ে অভ্রর দিকে তাকিয়ে রইল। অভ্রর কণ্ঠস্বর একদম শান্ত,
— "সম্পর্ক শুধু শরীর দিয়ে হয় না তিথি, সম্পর্ক তৈরি হয় সম্মান আর বিশ্বাস দিয়ে। তুমি আজ প্রমাণ করে দিয়েছ যে তোমার কাছে সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই। আমি হয়তো আমার যৌবনের ভুলের কারণে আজ কিছুটা ভুগেছি, কিন্তু আমি অক্ষম নই। তবে তোমার মতো মানসিকতার একটা মেয়ের সাথে এক ছাদের নিচে থাকার চেয়ে একা থাকা অনেক সম্মানের। তুমি মুক্ত।"
পুরো ঘর স্তব্ধ। অভ্রর বাবা-মা অবাক হয়ে ছেলের এই পরিণত রূপ দেখছেন। সৌরভও আর কিছু বলল না। সে বুঝতে পারল, যে সম্পর্ক শুরুতেই এত বড় অপমানের শিকার হয়েছে, তা আর জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা বোকামি।
অতএব, সেই রাতেই তাদের রাস্তা আলাদা হয়ে গেল। তিথির পরিবার তাকে নিয়ে চলে গেল। বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ডিভোর্সের মাধ্যমে একটা সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
অভ্র ভাবছে এখন এই সমাজে সে চলবে কি করে ইতিমধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে। 🔴
গল্পটি ভালো লাগলে পাশে থাকুন। সবকটি চিহ্ন কি খুঁজে পেয়েছেন?
0 Comments