সময়ের ঘড়ি
একটি পুরোনো সিন্দুক ও অমীমাংসিত রহস্য**
**যাত্রার সূচনা:**
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এক নিঝুম গ্রাম ‘শান্তিপুর’। এই গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো জমিদার বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল কয়েক দশক ধরে। গ্রামের মানুষের ধারণা ছিল, সেই বাড়িতে অতৃপ্ত আত্মা বাস করে। কিন্তু শহরের তরুণ ফটোগ্রাফার আরিয়ান এসব বিশ্বাস করত না। সে তার নতুন প্রজেক্টের জন্য কিছু ঐতিহাসিক ছবি তুলতে সেই বাড়িতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। আরিয়ানের সাথে ছিল তার প্রিয় বন্ধু এবং প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ইভান। তারা দুজনেই জানত না যে এই অভিযান তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
**বাড়ির ভেতরে প্রবেশ:**
জমিদার বাড়ির সদর দরজাটি বিশাল এবং কাঠের কারুকাজ করা। লোনা ধরা দেয়াল আর মাকড়সার জালে ঘেরা ঘরগুলো দেখে মনে হচ্ছিল সময় যেন এখানে থমকে দাঁড়িয়েছে। ইভান প্রতিটি কোণ খুব সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করছিল। হঠাৎ করে দোতলার একটি গোপন কক্ষের দরজার আড়ালে তারা একটি ধুলোবালি মাখা লোহার সিন্দুক খুঁজে পায়। সিন্দুকটি সাধারণ কোনো সিন্দুক ছিল না; এর ওপরে খোদাই করা ছিল অদ্ভুত সব নক্ষত্রের মানচিত্র। ইভান বুঝতে পারল এটি কেবল ধন-সম্পদের জন্য নয়, বরং কোনো বিশেষ বৈজ্ঞানিক বা জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
**সিন্দুকের রহস্য উন্মোচন:**
সিন্দুকটি খোলার জন্য কোনো চাবি ছিল না, বরং ছিল একটি সংখ্যার ধাঁধা। আরিয়ান তার ক্যামেরা দিয়ে সিন্দুকের গায়ে থাকা চিহ্নগুলোর ছবি তুলে বিশ্লেষণ করতে শুরু করল। ধাঁধাটি সমাধান করতে তাদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে গেল। যখন সিন্দুকটি খুলল, তারা অবাক হয়ে দেখল সেখানে কোনো সোনা-দানা নেই। পরিবর্তে সেখানে রয়েছে একটি অদ্ভুত সোনার ঘড়ি, যার কাঁটাগুলো উল্টো দিকে ঘুরছে। ঘড়িটির নিচে একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া গেল, যাতে লেখা ছিল—"অতীতকে বদলানো যায় না, কিন্তু ভবিষ্যৎকে দেখা সম্ভব যদি আপনি বর্তমানের মূল্য বোঝেন।"
**অপ্রত্যাশিত ঘটনা:**
ঘড়িটি হাতে নেওয়ার সাথে সাথেই আরিয়ান এক অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করল। তার চোখের সামনে যেন সিনেমার মতো গত ১০০ বছরের ঘটনাগুলো ভেসে উঠতে লাগল। আরিয়ান দেখতে পেল কীভাবে এই জমিদার বংশ ধ্বংস হয়েছিল এবং কেন এই বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। তারা বুঝতে পারল এই ঘড়িটি কোনো সাধারণ বস্তু নয়, এটি একটি প্রাচীন প্রযুক্তি যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে সময়ের সীমানার বাইরে নিয়ে যেতে পারে। ইভান সিদ্ধান্ত নিল এই আবিষ্কারটি সে বিশ্বকে জানাবে না, কারণ মানুষের লোভ এই ঘড়ির অপব্যবহার করতে পারে।
**উপসংহার ও শিক্ষা:**
আরিয়ান এবং ইভান সিন্দুকটি আগের মতোই বন্ধ করে সেখান থেকে বেরিয়ে এল। তারা অনুভব করল যে কিছু রহস্য অমীমাংসিত থাকাই ভালো। তারা বুঝতে পারল যে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো বর্তমান সময়। বাড়ি থেকে ফেরার পথে আরিয়ান তার ডায়েরিতে সব লিখে রাখল। আপনারা যারা এই রোমাঞ্চকর এবং রহস্যময় গল্পটি পড়ছেন, তারা নিশ্চয়ই জানতে চান এই অভিযানের সেই প্রধান সাহসী ফটোগ্রাফারের নাম কী ছিল? সেই তরুণের নাম হলো **আরিয়ান**। তার সাহসিকতার কারণেই এই প্রাচীন সময়ের ঘড়ির রহস্য অন্তত তাদের কাছে উন্মোচিত হয়েছিল।
---
Qbox-4
সঠিক উত্তরটি লিখুন
প্রশ্ন: গল্পের সেই প্রধান সাহসী ফটোগ্রাফারের নাম কী?

0 Comments