Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ছায়ামানব

 ছায়ামানব



একটি পরিত্যক্ত লাইটহাউস ও সমুদ্রের সেই রহস্যময় রাত**


**রহস্যের সূত্রপাত:**

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত একটি জনমানবহীন দ্বীপ ‘কুয়াশা দ্বীপ’। এই দ্বীপের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক লাইটহাউস, যা গত ৫০ বছর ধরে অকেজো। স্থানীয় জেলেরা বলে, অমাবস্যার রাতে এই লাইটহাউস থেকে নাকি এক অদ্ভুত নীল আলো সমুদ্রের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই রহস্যের সন্ধানে বের হয় দুই তরুণ বন্ধু—তৌহিদ ও সায়মন। তৌহিদ একজন স্বাধীন সাংবাদিক আর সায়মন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার। তারা একটি ছোট নৌকা নিয়ে সেই দ্বীপে পৌঁছায় যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে।


**লাইটহাউসের ভেতরে:**

দ্বীপটি অদ্ভুতভাবে নিস্তব্ধ ছিল। কোনো পাখির ডাক নেই, কেবল সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। লাইটহাউসের মরিচা ধরা লোহার সিঁড়ি বেয়ে তারা যখন ওপরে উঠছিল, তখন তৌহিদ লক্ষ্য করল দেয়ালে কিছু অদ্ভুত চিহ্ন আঁকা। এগুলো কোনো চেনা ভাষা নয়। সায়মন তার কাছে থাকা ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে দেখল এখানে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তি কাজ করছে। হঠাৎ করেই লাইটহাউসের ওপরে থাকা বিশাল লেন্সটি নিজে থেকেই ঘুরতে শুরু করল। তারা দুজনেই ভয়ের চোটে সিঁড়িতেই থমকে দাঁড়াল।


**সেই ছায়ামানব:**

সায়মন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে যখন ওপরের কন্ট্রোল রুমে উঁকি দিল, তখন সে দেখল জানালার পাশে একটি আবছা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। লোকটিকে দেখতে মানুষের মতোই, কিন্তু তার সারা শরীর থেকে যেন এক শীতল ধোঁয়া বের হচ্ছে। তৌহিদ সাহসী হয়ে ডাক দিল, "কে আপনি?" ছায়াটি কোনো কথা না বলে কেবল নিচের একটি ড্রয়ারের দিকে ইশারা করল। তারা ড্রয়ারটি খোলার সাথে সাথে দেখল সেখানে একটি পুরনো লগবুক বা হিসাবের খাতা রাখা আছে। সেই খাতা থেকে তারা জানতে পারল যে, এটি কেবল একটি লাইটহাউস ছিল না, বরং এটি ছিল এক প্রাচীন সংকেত পাঠানোর কেন্দ্র।


**গোপন সত্যের উন্মোচন:**

লগবুকের পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে তৌহিদ একটি চমকপ্রদ তথ্য পেল। ৫০ বছর আগে এখানে একজন লাইটহাউস কিপার বাস করতেন যিনি সমুদ্রের মাঝে হারিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে বিপদ থেকে সংকেত দিয়ে বাঁচাতেন। সেই কিপার একদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ছায়ামানবটি সম্ভবত সেই কিপারের আত্মা, যে এখনো তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তৌহিদ যখন লগবুকের শেষ পাতায় সই করার চেষ্টা করল, তখন সেই ছায়ামানবটি একটি মৃদু হাসি দিয়ে বাতাসের সাথে মিলিয়ে গেল। পুরো লাইটহাউসটি আবার শান্ত হয়ে পড়ল।


**উপসংহার ও বিদায়:**

তৌহিদ ও সায়মন দ্বীপ থেকে ফেরার পথে বুঝতে পারল যে সব ছায়া বা আত্মা ক্ষতিকর হয় না। কিছু মানুষ মৃত্যুর পরেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে চায়। তারা সেই লগবুকটি সাথে করে নিয়ে আসে এবং একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই রহস্য প্রকাশ করে। আপনারা যারা এই রোমাঞ্চকর ‘ছায়ামানব’ এর গল্পটি পড়লেন, তারা কি বলতে পারেন এই অভিযানের সেই সাহসী সাংবাদিকের নাম কী ছিল? সেই তরুণের নাম হলো **তৌহিদ**। তার এই সাহসিকতার কারণেই আজ একটি পরিত্যক্ত লাইটহাউসের রহস্য পৃথিবীর মানুষের সামনে এল।


--- 

Qbox-5

✨ কুইজ

সঠিক উত্তরটি লিখুন

প্রশ্ন: গল্পের সেই সাহসী সাংবাদিকের নাম কী ছিল?


Ad-5

Post a Comment

0 Comments