Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

গল্প : আমিনার চোখে এক টুকরো আকাশ

আমিনার চোখে এক টুকরো আকাশ।


 গাজা*র এক চিলতে আকাশে আজ বিকেলের রক্তিম সূর্যটা যেন আরও বেশি বিবর্ণ। ধুলোবালি আর বারু*দের গন্ধে ভারী হয়ে আছে বাতাস। ধ্বংস*স্তূপের ওপর বসে আছে সাত বছরের ছোট্ট আমিনা। তার পরনের ফ্রকটা ধুলোয় ধূসর, কিন্তু তার চোখে এখন আর কোনো কান্না নেই। কান্নার জল হয়তো শুকিয়ে গেছে বহু আগে, যখন তার চোখের সামনেই ঘরটা ধসে পড়েছিল।


সেই ঘর, যেখানে বাবা বই পড়তেন, মা রান্নাঘরের খুন্তি নেড়ে হাসি মুখে বলতেন, "আজ রাতে সবাই মিলে একসাথে খাব।"


কিন্তু সে রাতে খাবার টেবিলে বসার আগেই আকাশ থেকে নেমে এসেছিল আগু*নের বৃষ্টি। কোনো সাইরেন বাজেনি, কোনো হুঁশিয়ারি ছিল না—শুধু ছিল মুহূর্তের মধ্যে সব ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার এক বিভীষিকাময় আর্তনাদ। আমিনা দেখছিল, কীভাবে বড় বড় লোহার দানবগুলো (ট্যাং*ক) তাদের অলিগলিতে ঢুকে পড়ছিল। যে গলি দিয়ে সে বন্ধুদের সাথে দৌড়ে বেড়াত, সেখানে এখন বন্দু*কধারীদের বুটের আওয়াজ।


ইজরা*য়েলি সেনা*দের সেই ঠান্ডা চাহনি আমিনার মনের গভীরে গেঁথে আছে। তারা যখন কোনো বাড়ি ঘেরাও করতো, তখন তাদের মনে দয়া-মায়ার লেশমাত্র থাকতো না। আমিনা দেখেছে, কীভাবে তার প্রতিবেশীর বাবাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে আনা হলো। তাদের হাতের অত্যাধুনিক অ*স্ত্রগুলো যেন ক্ষুধার্ত জানোয়ারের মতো গর্জে উঠছিল। তারা কি মানুষ? আমিনার অবুঝ মনে প্রশ্ন জাগে। মানুষের মুখে তো এমন নিষ্ঠুরতা মানায় না।

🇵🇸🇵🇸🇵🇸(ফিলিস্তিন) 

মা যখন আমিনাকে আগলে ধরে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখতেন, তখন আমিনা শুনতো ওপরের তলায় আসবাবপত্র ভাঙচুরের শব্দ। তারা খুঁজতো—কী খুঁজতো তারা? শান্তি? নাকি ধ্বং*সের নেশা? তাদের বুটের আওয়াজে আর ব*ন্দুকের নলে যে ত্রাস ছিল, তা কোনো যু*দ্ধের ভাষা হতে পারে না, তা ছিল নিছক পৈশা*চিকতা। কোনো শিশু যখন ভয়ার্ত চোখে চেয়ে থাকে, কোনো মা যখন আর্তনাদ করে, তখন কি তাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র কম্পন হয় না?


একদিন রাতের অন্ধকারে, যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, আমিনা দেখেছিল একদল সৈন্য এক তরুণকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটির বয়স বড়জোর আঠারো। তার হাত বাঁধা, চোখ বাঁধার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা—হয়তো তারা চেয়েছিল সে দেখুক কীভাবে তার মা-বাবার সামনে তাকে অপমান করা হচ্ছে। তারা তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারছিল। আমিনা তখন জানালা দিয়ে আড়চোখে দেখছিল, তার ঠোঁট কামড়ে ধরেছিল যেন চিৎকার বেরিয়ে না আসে। সে বুঝতে পারছিল, এটা কেবল যু*দ্ধ নয়, এটা মানবিকতার অবমাননা।


অবরোধের দিনগুলোতে যখন খাবার বা পানি কিছুই ছিল না, তখন সেই 'নরপিশাচ' রূপী সে*নারা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে মজা দেখতো। মানুষ যখন এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করতো, তারা তখন তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতো। তারা জানতো, এই তৃষ্ণা, এই ক্ষুধা তাদের জয়ী হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। একজন বৃদ্ধা যখন তার ওষুধের জন্য অনুনয় করছিলেন, তখন এক সৈন্য তার হাতের লাঠিটা কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। আমিনার কাছে সেই দৃশ্যটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম অবমাননার ছবি।


ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন মানুষের আর্তনাদ শোনা যেত, তখন উদ্ধারকর্মীদের ওপরও তারা গুলি চালাতো। তারা চায়নি কেউ বেঁচে থাকুক, তারা চায়নি কোনো চিহ্ন থাকুক। তাদের সেই নির্বিচার গু*লিবর্ষণে কত মানুষ যে প্রাণ হারিয়েছে, তার হিসাব কি কোনো খাতায় আছে?


আমিনা আজ একা। তার পরিবার নেই, খেলার সাথী নেই। কিন্তু তার স্মৃতিতে আছে সেই সব দানবদের মুখগুলো। তারা কি জানে, তারা এক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কেবল হাড়গোড় ভাঙছে না, তারা ভেঙে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিশুর স্বপ্ন? তারা কি জানে, এই ঘৃণা একদিন তাদেরই গ্রাস করবে?


সূর্য ডুবছে। আমিনা ধুলোবালি ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালো। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে এক ফিসফিস করে বলল, "আমরা হারিনি, কারণ আমরা এখনও বেঁচে আছি। আমাদের কান্না হয়তো তাদের কানে পৌঁছায়নি, কিন্তু আমাদের ইতিহাস একদিন বলবে, তোমরা কী করেছ।"


দূর দিগন্ত থেকে আবার গু*লির শব্দ ভেসে আসছে। আমিনা জানে, রাতটা আবার দীর্ঘ হবে। সে আবার ধ্বংসস্তূপের গভীরে নিজেকে লুকিয়ে ফেলবে, অপেক্ষা করবে—অপেক্ষা করবে এমন এক ভোরের, যেদিন আকাশে শুধু শান্তির পায়রা উড়বে, কোনো বারুদ নয়।

🇵🇸🇵🇸🇵🇸 (ফিলিস্তিন) 

মানুষের তৈরি এই বিভাজন, এই হিং*স্রতা কি কখনো শেষ হবে? আমিনার মতো হাজারো শিশুর প্রশ্ন বাতাসে ঝুলে থাকে। তারা শুধু জানে, পৃথিবীটা তাদের জন্য অনেক আগেই নরক বানিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তারা আশায় বাঁচে, কারণ আশা ছাড়া তাদের আর অবশিষ্ট কিছুই নেই।


আজকের এই অন্ধকার কি শেষ হবে? নাকি এভাবেই মানবতা প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে মরবে? আমিনা হাঁটা শুরু করে, ধ্বং*সস্তূপের ভেতর দিয়ে। তার পথ অজানা, কিন্তু তার সংকল্প অটল। সে জানে, সে বেঁচে থাকবে, কারণ তার বেঁচে থাকাই তাদের নিষ্ঠুরগাজা*র এক চিলতে আকাশে আজ বিকেলের রক্তিম সূর্যটা যেন আরও বেশি বিবর্ণ। ধুলোবালি আর বারু*দের গন্ধে ভারী হয়ে আছে বাতাস। ধ্বংস*স্তূপের ওপর বসে আছে সাত বছরের ছোট্ট আমিনা। তার পরনের ফ্রকটা ধুলোয় ধূসর, কিন্তু তার চোখে এখন আর কোনো কান্না নেই। কান্নার জল হয়তো শুকিয়ে গেছে বহু আগে, যখন তার চোখের সামনেই ঘরটা ধসে পড়েছিল।


সেই ঘর, যেখানে বাবা বই পড়তেন, মা রান্নাঘরের খুন্তি নেড়ে হাসি মুখে বলতেন, "আজ রাতে সবাই মিলে একসাথে খাব।"


কিন্তু সে রাতে খাবার টেবিলে বসার আগেই আকাশ থেকে নেমে এসেছিল আগু*নের বৃষ্টি। কোনো সাইরেন বাজেনি, কোনো হুঁশিয়ারি ছিল না—শুধু ছিল মুহূর্তের মধ্যে সব ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার এক বিভীষিকাময় আর্তনাদ। আমিনা দেখছিল, কীভাবে বড় বড় লোহার দানবগুলো (ট্যাং*ক) তাদের অলিগলিতে ঢুকে পড়ছিল। যে গলি দিয়ে সে বন্ধুদের সাথে দৌড়ে বেড়াত, সেখানে এখন বন্দু*কধারীদের বুটের আওয়াজ।


ইজরা*য়েলি সেনা*দের সেই ঠান্ডা চাহনি আমিনার মনের গভীরে গেঁথে আছে। তারা যখন কোনো বাড়ি ঘেরাও করতো, তখন তাদের মনে দয়া-মায়ার লেশমাত্র থাকতো না। আমিনা দেখেছে, কীভাবে তার প্রতিবেশীর বাবাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে বের করে আনা হলো। তাদের হাতের অত্যাধুনিক অ*স্ত্রগুলো যেন ক্ষুধার্ত জানোয়ারের মতো গর্জে উঠছিল। তারা কি মানুষ? আমিনার অবুঝ মনে প্রশ্ন জাগে। মানুষের মুখে তো এমন নিষ্ঠুরতা মানায় না।

🇵🇸🇵🇸🇵🇸(ফিলিস্তিন)

মা যখন আমিনাকে আগলে ধরে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখতেন, তখন আমিনা শুনতো ওপরের তলায় আসবাবপত্র ভাঙচুরের শব্দ। তারা খুঁজতো—কী খুঁজতো তারা? শান্তি? নাকি ধ্বং*সের নেশা? তাদের বুটের আওয়াজে আর ব*ন্দুকের নলে যে ত্রাস ছিল, তা কোনো যু*দ্ধের ভাষা হতে পারে না, তা ছিল নিছক পৈশা*চিকতা। কোনো শিশু যখন ভয়ার্ত চোখে চেয়ে থাকে, কোনো মা যখন আর্তনাদ করে, তখন কি তাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র কম্পন হয় না?


একদিন রাতের অন্ধকারে, যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, আমিনা দেখেছিল একদল সৈন্য এক তরুণকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটির বয়স বড়জোর আঠারো। তার হাত বাঁধা, চোখ বাঁধার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা—হয়তো তারা চেয়েছিল সে দেখুক কীভাবে তার মা-বাবার সামনে তাকে অপমান করা হচ্ছে। তারা তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারছিল। আমিনা তখন জানালা দিয়ে আড়চোখে দেখছিল, তার ঠোঁট কামড়ে ধরেছিল যেন চিৎকার বেরিয়ে না আসে। সে বুঝতে পারছিল, এটা কেবল যু*দ্ধ নয়, এটা মানবিকতার অবমাননা।

🇮🇱🇮🇱🇮🇱(হিজরায়েল)


অবরোধের দিনগুলোতে যখন খাবার বা পানি কিছুই ছিল না, তখন সেই 'নরপিশাচ' রূপী সে*নারা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে মজা দেখতো। মানুষ যখন এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করতো, তারা তখন তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতো। তারা জানতো, এই তৃষ্ণা, এই ক্ষুধা তাদের জয়ী হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। একজন বৃদ্ধা যখন তার ওষুধের জন্য অনুনয় করছিলেন, তখন এক সৈন্য তার হাতের লাঠিটা কেড়ে নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। আমিনার কাছে সেই দৃশ্যটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম অবমাননার ছবি।


ধ্বংসস্তূপের নিচে যখন মানুষের আর্তনাদ শোনা যেত, তখন উদ্ধারকর্মীদের ওপরও তারা গুলি চালাতো। তারা চায়নি কেউ বেঁচে থাকুক, তারা চায়নি কোনো চিহ্ন থাকুক। তাদের সেই নির্বিচার গু*লিবর্ষণে কত মানুষ যে প্রাণ হারিয়েছে, তার হিসাব কি কোনো খাতায় আছে?


আমিনা আজ একা। তার পরিবার নেই, খেলার সাথী নেই। কিন্তু তার স্মৃতিতে আছে সেই সব দানবদের মুখগুলো। তারা কি জানে, তারা এক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কেবল হাড়গোড় ভাঙছে না, তারা ভেঙে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিশুর স্বপ্ন? তারা কি জানে, এই ঘৃণা একদিন তাদেরই গ্রাস করবে?


সূর্য ডুবছে। আমিনা ধুলোবালি ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালো। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে এক ফিসফিস করে বলল, "আমরা হারিনি, কারণ আমরা এখনও বেঁচে আছি। আমাদের কান্না হয়তো তাদের কানে পৌঁছায়নি, কিন্তু আমাদের ইতিহাস একদিন বলবে, তোমরা কী করেছ।"

🇵🇸🇵🇸🇵🇸🇵🇸(ফিলিস্তিন)

দূর দিগন্ত থেকে আবার গু*লির শব্দ ভেসে আসছে। আমিনা জানে, রাতটা আবার দীর্ঘ হবে। সে আবার ধ্বংসস্তূপের গভীরে নিজেকে লুকিয়ে ফেলবে, অপেক্ষা করবে—অপেক্ষা করবে এমন এক ভোরের, যেদিন আকাশে শুধু শান্তির পায়রা উড়বে, কোনো বারুদ নয়।


মানুষের তৈরি এই বিভাজন, এই হিং*স্রতা কি কখনো শেষ হবে? আমিনার মতো হাজারো শিশুর প্রশ্ন বাতাসে ঝুলে থাকে। তারা শুধু জানে, পৃথিবীটা তাদের জন্য অনেক আগেই নরক বানিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তারা আশায় বাঁচে, কারণ আশা ছাড়া তাদের আর অবশিষ্ট কিছুই নেই।


আজকের এই অন্ধকার কি শেষ হবে? নাকি এভাবেই মানবতা প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে মরবে? আমিনা হাঁটা শুরু করে, ধ্বং*সস্তূপের ভেতর দিয়ে। তার পথ অজানা, কিন্তু তার সংকল্প অটল। সে জানে, সে বেঁচে থাকবে, কারণ তার বেঁচে থাকাই তাদের নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে বড় জবাব।


---তার সবচেয়ে বড় জবাব।


---

Post a Comment

0 Comments